খাদ্য ও পুষ্টি খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন ব্যবস্থাপনা ডায়াবেটিস স্বাস্থ্য পরামর্শ

ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট

এক্সারসাইজের অভাব, ঘুমের ব্যাঘাত, স্ট্রেস, টেনশন ও খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্য ওজন বাড়ছে দ্রুতহারে। আর তাই ডায়াবেটিসও জেঁকে বসছে। তাই ওজন ঠিক রাখার পাশাপাশি ভুঁড়ি বাড়তে না দেওয়াই হলো ডায়াবেটিসকে দূরে রাখার উপায়। আর তাই প্রয়োজন লো ফ্যাট, হাইনিউট্রিয়েন্টস ও মডারেট ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং মন ভালো রাখা। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাওয়াদাওয়ার জরুরী ভূমিকা রয়েছে। তার মানে কিন্তু এই নয় যে সব ভালো খাবার থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীও একটু মিষ্টি খেতেই পারবেন। আসলে দরকার হলো পরিমিতিবোধ ও নিয়মানুবর্তিতা।

 

ডায়েটে কী রাখবেন :

 

  •  অতিরিক্ত ওজন অনেক সময় ডায়াবেটিসের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। তাই ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। মাত্র 7 শতাংশ ওজন কমাতে পারলে ডায়াবেটিসের ঝুকি কমে অর্ধেক হয়ে যায়। তবে ওজন কমাতে হবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ।অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার বাদ দেন, যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বরং নাশতা ঠিকমতো খাওয়া উচিত। নাশতায় রাখতে পারেন ওটস, লাল আটার রুটি, সবজি, ফল, ডিমের সাদা অংশ ও সর ছাড়া দুধ।
  •  উচ্চমাত্রার ফাইবারযুক্ত সবজি যেমন শিম, ব্রকলি, মটরশুটি, বাধাকপি, ইত্যাটি রাখুন ডায়েটে। ডালজাতীয় খাবারও রাখতে পারেন। এগুলোর প্রতিটিই ডায়াবেটিসের জন্য ভালো। উচ্চ ফাইবারযুক্ত ফল যেমন-পেঁপে, কমলালেবু, আপেল, নাশপতি, পেয়ারা ইত্যাদি খান। কলা, আম বা আঙুরের মতো ফলে ক্যালরি বেশি থাকে। তাই এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খাবেন। খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম আর পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকতে হবে। একবারে বেশি খাওয়া ঠিক নয়। সারা দিনেই অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া ভালো।
  • মিষ্টি খেতে যারাভালোবাসেন তাঁদের তোত বটেই, যারা মিষ্টি ভালোবাসেন না, তাদেরও ডায়াবেটিস হলে মিষ্টির প্রতি আকঙ্ক্ষা বাড়ে। ডায়াবেটিস হলে যে মিষ্টি একেবারে বাদ দিতে হবে তা কিন্তু নয়। মাঝে মধ্যে দু-একটি মিষ্টি বা পায়েস-সেমাই একটু খাওয়া যায়। যেদিন মিষ্টি খাবেন, সেদিন একটু বেশি করে হাঁটবেন। তাহলেই আর অসুবিধা নেই।
  •  চিনিযুক্ত নাশতার সিরিয়ালের পরিবর্তে হাই ফাইবার ব্রেকফাষ্ট সিরিয়াল, ইনস্ট্যান্ট ওট মিলের বদলে রোলড ওটস বা স্টিল কাট ওটস বেছে নিন।
  • আলু যতই ভালোবাসুন না কেন, কমিয়ে দিতে হবে। বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি খাওয়া ভালো। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেড রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর হাই ফাইবার কার্বোহাইড্রেট অনেকটা সময় নিয়ে হজম হয়, তাই রক্তে চিনির মাত্রা অতিরিক্ত রাড়াতে পারে।
  • ফ্যাট বা তেলজাতীয় খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে । স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্র্যান্স ফ্যাট ডায়াবেটিস রোগীর জন্য তো বটেই, কারো জন্যই ভালো নয়। গুঁড়া দুধ, ভেজিটেবল অয়েল, প্যাকেটজাত পণ্য, লাল মাংস ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এগুলোয় ওজনও বাড়ে দ্রুত। অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, ফ্ল্যাক্স সিড, বাদাম, অ্যাভোকাডো, ননিবিহীন দুধ, দই ইত্যাদি ভালো।
  • এ ছাড়া ব্রেন ও হার্টকে ঠিক রাখতে ওমেগা থ্রিফ্যাটি এসিডের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। টুনামাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, ফ্লাক্স সিড ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পারিমাণে ওমেগা থ্রিফ্যাটি এসিড।

 

ব্যায়াম বাদ দেওয়া যাবে না:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাওয়াদাওয়া যেমন গুরুত্বপুর্ন, তেমনি ব্যায়ামও অতি গুরুত্বপূর্ন। ওজন যেমন ঠিক রাখতে হবে তেমনি শরীরে গ্রহণ করা ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতেও হবে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অবশ্যই করবেন। তবে ব্যায়াম অবশ্যই করবেন। তবে ব্যায়াম করার আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। জেনে নিন কতটা সময় ও কী ধরনের ব্যায়াম করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
তানিম শাহরিয়ার আবেদীন
তানিম একজন ওয়েব ডেভলপার। উনি বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাই্ট, নিওজ পোর্টা্ল ও ইকমার্স সাইট তৈরি করেছেন। যদি কোন ওয়েবসাইট, ব্লগ, নিওজ পোর্টাল বা করপোরেট পোর্টাল তৈরি করতে চান তাহলে উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে +৮৮-০১৬৭৫-৭৭৮-২২৫

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।