দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রারোগ
ঘুমের সমস্যা

অনিদ্রা পরবর্তীতে অ্যাজমা ঘটাতে সাহায্য করে

এক গবেষণায় প্রকাশ  পেয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রারোগে(Insomnia) আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুক্তভোগী হওয়ার আশংকা ৩ গুণ বেশি। নতুন আরেকটি গবেষণা বলছে, নিদ্রাহীনতা প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

আসুন জানাজাক বিভিন্ন গবেষনায় প্রাপ্ত তথ্যসমূহঃ

 

ঘুমজনিত সমস্যায় জর্জরিত ব্যক্তিদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা এহেন সমস্যাহীন ব্যক্তিদের থেকে তিন গুণ বেশি। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর গবেষকেরা এমনটা জানিয়েছেন।

 

গবেষনাপত্রের সহ-রচয়িতা লিন বিয়েট স্ট্র্যান্ড যেমনটা বলছিলেন, “অনিদ্রারোগ বলতে বোঝায় ঘুমাতে বা ঘুম ঠিক রাখতে সমস্যা হওয়া, অথবা বাজে রকমের ঘুম। এবং এটা অ্যাজমা রোগীদের মাঝে প্রায়শঃই দেখা যায়। কিন্তু অনিদ্রাভুগিদের পরবর্তীতে অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার তুমুল সম্ভাবনা আছে কিনা, তা পুরোপুরিভাবে খুঁজে বের করা হয়নি।

 

উক্ত গবেষণাতে ২০ থেকে ৬৫ বছর বয়স্ক নরওয়ে-এর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, যেসব ব্যক্তি বলেছিলেন তাদের ঘুমোতে ‘প্রায়ই’ বা ‘প্রায় প্রতি রাতেই’ সমস্যা হয়, ১১ বছরের মধ্যে তাদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যথাক্রমে ৬৫% এবং ১০৮%।

 

আবার যেসব ব্যক্তি বলেছিলেন, তারা বেশ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে জেগে যান এবং ঘুমোতে ‘প্রায়ই’ বা ‘প্রায় প্রতি রাতেই’ সমস্যায় পড়েন, অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যথাক্রমে ৯২% এবং ৩৬%। আর যাদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বাজে ঘুম হয়, তাদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৯৪%, যেমনটা গবেষনায় প্রকাশ।

 

যাহোক, ‘অনিদ্রা হলেই অ্যাজমা হবে’-উক্ত গবেষণার বক্তব্য এমন নয়। স্ট্র্যান্ড বলছিলেন, আরো কিছু গবেষণা প্রয়োজন এসব আবিষ্কারের সত্যতা নির্ণয় করতে।

 

অ্যাজমা একটা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যাধি, যার কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়; যেমন শব্দ করে শ্বাস ফেলা, বুক টানটান লাগা এবং শ্বাসকষ্ট। ধূমপান, স্থূলতা এবং বায়ুদূষণের কারণে অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে। বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত।

 

“অনিদ্রা যেহেতু নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় রয়েছে, অনিদ্রার কারণে স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাবের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখলে অ্যাজমা প্রতিরোধে তা কার্যকর হতে পারে,” যেমনটা ইউরোপিয়ান লাং ফাউন্ডেশনের একটা নিউজ রিলিজে স্ট্র্যান্ড বলছিলেন।

 

গবেষণাপত্রের মূল রচয়িতা বেন ব্রাম্পটনের মতে, “আমাদের গবেষণার মূল একটি আবিষ্কার হলো, দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিরা দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রায় ভুগে না এমন ব্যক্তিদের থেকে তিনগুণ বেশী সম্ভাবনায় থাকে অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার। এটার মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায় যে, অনিদ্রার কারণে শরীরের ভেতরে সাধিত পরিবর্তনগুলো একত্রিত হয়ে শ্বাসপথে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।”

 

ব্রাম্পটন নরওয়ের ট্রন্ডহেইম ইউনিভার্সিটি হসপিটালের বক্ষব্যাধি ও পেশাগত ঔষধ ডিপার্টমেন্টের সাথেও জড়িত রয়েছেন।

 

সাম্প্রতিক কিছু গবেষনা এটাও দেখাচ্ছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনার সাথে বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তার সম্পর্ক রয়েছে। উক্ত গবেষণাটির পটভূমিকার আলোচনাতে এমনটা পাওয়া গিয়েছে।

 

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছিলো ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি জার্নালের ১লা ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়।

  •  
    2
    Shares
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
তানিম শাহরিয়ার আবেদীন
তানিম একজন ওয়েব ডেভলপার। উনি বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাই্ট, নিওজ পোর্টা্ল ও ইকমার্স সাইট তৈরি করেছেন। যদি কোন ওয়েবসাইট, ব্লগ, নিওজ পোর্টাল বা করপোরেট পোর্টাল তৈরি করতে চান তাহলে উনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে +৮৮-০১৬৭৫-৭৭৮-২২৫

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।