খাদ্য ও পুষ্টি

আয়রণ অভাবজনিত রক্তশূণ্যতা

রক্তে যখন আয়রণের পরিমান কমে যায় তখন আয়রণের স্বল্পতার কারণে রক্তশূণ্যতা হয়। আয়রণ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান যে রক্তে প্রোটিন (আমিষ) তেরিতে সাহায্য করে যার হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে শরীরের বিভিন্ন কোষে নিয়ে যায়। যেটির প্রয়োজন কোষ ও মাংসপেশীর কার্যক্রমে। যখন রক্তে পর্যাপ্ত আয়রণ থাকবে না তখন শরীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পাবে না। এটি একটি সাধারণ রোগ যেটি অনেকের অজান্তেই শরীওে থেকে যায়। মহিলারা এই রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। কারণ-
১। মাসিক ও গর্ভধারনের কারনে প্রচুর রক্ত চয়ে যায়।
২। আয়রণযুক্ত খাদ্য স্বল্পতায়।
৩। ক্রিমি রোগে।
৪। পরিপাক তন্ত্রের অসুখে খাবার কিভাবে হজম হয় তার উপর নির্ভর করে।
৫। দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ।
৬। আয়রণ হজম না করতে পারা।

 

কারা বেশী আক্রান্ত হয় :
রক্তস্বল্পতা একটি সাধারণ রোগ । এই রোগে মহিলা ও পুরুষ দুইজনই আক্রান্ত হয়। তবে বেশি আক্রান্ত হয়।
১। বাচ্চাধারণক্ষম মহিলারা।
২। গর্ভবতী মহিলারা।
৩। ঘন ঘন রক্তদান ।
৪। অপরিপ¦ক্ক শিশুরা ।
৫। শাকসবজী আহারী যারা মাছ মাংস ও ডিম খায় না।

উপসর্গ :
১। শরীর দূর্বলতা ।
২। ফ্যাকাশে চামড়া ।
৩। ঘন ঘন শ্বাসপ্রাশ্বাস।
৪। ঘুম ঘুম ভাব ।
৫। হাতে পায়ে ঝি ঝি ধরা।
৬। জিহ্বা ফুলে যাওয়া, স্বাদ না থাকা।
৭। হাত বা পা ঠান্ডা থাকা।
৮।নখ সাদা ও ভেঙ্গে যাওয়া।
৯। মাথা ধরা।

 

রক্তস্বল্পতার কারণ :
রক্তের কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা বুঝা যায়। যেমন –
১। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
২। হিমোগ্লোবিন লেভেল।
৩। আর.বি.সি সাইজ

 

চিকিৎসা :

আয়রণ বড়ি দিনে ১টি করে খালি পেটে খেতে হয়। যদি খালি পেটে খেলে সমস্যা হয় তাহলে খাবারের সাথে খেলে ভাল হয়। এই বড়ি খেলে কারো কারো পায়খানা কালো ও শক্ত হয়।

 

কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলোর মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা কমাতে পারি। যেমন-

  • প্রানীজ উপাদান- মাংস, কলিজা, দুধ, ডিম।
  • উদ্ভিদ উপাদান – বাদাম, লালশাক, মিষ্টিকুমড়া, সিমের বিচি।
  • ফল – ডালিম, খেজুর, কলা।
  • ভিটামিন সি আয়রণ হজমে সাহায্য করে।

তারপরে নিজে নিজে চিকিৎসা করার থেকে একজন ডাক্তারের পরামর্শমত চিকিৎসা নেয়া ভালো। তা না হলে বেশি আয়রণ রক্তে পরে গেলে লিভারের ক্ষতি ও কনষ্টিপেশন হয়ে যেতে পারে।

  •  
    7
    Shares
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
ডা: সেলিনা আক্তার বানু
এম.বি.বি.এস, এমপিএইচ, ডি, এল, পি (ইউ কে), সিসিডি, (ডায়বেটিস এবং হৃদরোগ), পিজিটি (গাইনি). বর্তমানে ডা: সেলিনা ব্রাক ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারে সিনিয়র মেডিক্যাল কনসালটেন্ট হিসাবে কর্মরত আছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।